চলুন জেনে নেই পৃথিবীর সবচাইতে বিষাক্ত পদার্থগুলো সম্পর্কে


৫. পারদ

পারদ

পারদের বিষাক্তর কথা উন্মুক্ত হয় Lewis Carroll এর  দ্বারা।  Lewis Carroll এর বাণিজ্য ছিল পারদ রপ্তানি করা, এবং সে নিজে এর সাথে সরাসরি জরিত ছিল। দীর্ঘদিন পারদ এর সংস্পর্শে থাকার কারনে সেই প্রথম বাক্তি যিনি পারদ এর বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হন। এবং তার দ্বারাই পারদ এর বিষাক্তটা বিজ্ঞানিদের গোচর হয়। মুলত পারদ এর বিষাক্তটা যা ধারনা করা হয় তার চেয়েও বেশি। আসলে পারদের বিষাক্তটা নির্ভর করে এর জৈব ও অজৈব উপাদানের উপর এবং তা নির্ধারণ বেশ জটিল। LD50 অনুযায়ী সাধারণত  এর বিষাক্ততা  1mg / কেজি ও 100 মিলিগ্রাম / কেজির মধ্যে সীমাবদ্ধ। অর্থাৎ একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুকে মারার জন্য 100 mg পারদ প্রায়  যথেষ্ট।
পারদ দ্বারা অনেকেই আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছে। এদের মধ্যে একজন ডেন্টাল কর্মী তার শিরার রক্তে পারদ  injected করার ঘটনাও রয়েছে।
***LD50 মানে হল lethal dose যার মানে বুঝায় মানুষের মৃত্যুর জন্য  সম্ভাব্য ডোজ/পরিমাণ***

৪. পোলোনিয়াম-210

পোলোনিয়াম-২১০

পারদ, আর্সেনিক ও অন্যান্য বিষাক্ত ধাতু মানুষের শরীরের সঙ্গে ধাতু বিষক্রিয়ার মাধ্যমে মৃত্যু ঘটায় কিন্তু Polonium-210 এক্ষেত্রে আলাদা। পোলোনিয়াম-২১০ ডিএনএ হিসেবে সংবেদনশীল বায়োমলিকিউলসের, বিনষ্ট করে অর্থাৎ বিকিরণ emitting দ্বারা মানব কোষগুলো আস্তে আস্তে মেরে ফেলে। সাধারণত  মানুষের পাকস্থলি  ক্ষয় হয়ে অর্ধেকে নিয়ে যায়। সুতরাং বুঝতেই পারছেন বিকিরণ বিষক্রিয়া দ্বারা এটি ধীরে ধীরে মানুষকে মৃত্যুর কাছে নিয়ে যায়। পোলোনিয়াম-২১০ এর বিকিরণ বিষক্রিয়ায় একজন সুস্থ মানুষ প্রায় একমাস সময়ের মধ্যে মারা যায়।

৩.আর্সেনিক

আর্সেনিক

আমাদের দেশের সবাই মোটামুটি আর্সেনিক এর সাথে পরিচিত, এর বিষাক্তের কথা প্রায় সবারই জানা কিন্তু পুরোপুরি নয় 
আমাদের দেশের নল্কুপে যে পরিমান আর্সেনিক পাওয়া যায় তা খুবই নগণ্য, তার পরও এর বিস্ক্রিয়ায় অনেক মানুষ বিপর্যস্ত। আর্সেনিক এর প্রভাবে ক্যান্সার হওয়ার ঝুকি অনেক বেশি।
যদিও LD50 তে ভৌতিক আর্সেনিক এর বিষক্রিয়া প্রায় 13 মিলিগ্রাম / কেজি তা সত্ত্বেও, বিষাক্ত পদার্থ এজেন্সীর ও রোগ নথিভুক্তির তালিকায় এটা বিপজ্জনক পদার্থ এবং অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষের পদার্থগুলোর মধ্যে রয়েছ সুতরাং সাবধান।

২. সাপের বিষ

সাপের বিষ

সাপ এর বিষ বিভিন্ন প্রোটিন এর সমন্বয়ে গঠিত Neurotoxin যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল উপায়ে সৃষ্টিকর্তা তৈরি করেছেন। বিষাক্ত সাপ এর বিস্ক্রিয়ায় মানুষ খুব দ্রুত মারা যায় এমনকি চিকিৎসা করানোরও সময় হয়না, আবার অনেক সাপ এর বিষ এর কোন প্রতিষেধকই নেই সেক্ষেত্রে মৃত্যু অনিবার্য। LD50s অনুযায়ী সাপের বিষের মাত্রা প্রায় 1 মিলিগ্রাম / কেজির নীচে। এবং বিভিন্ন সাপ এর বিষ এর ক্ষেত্রে এর মাত্রাও বিভিন্ন হয়ে থাকে।  পৃথিবীর সবচাইতে বিষাক্ত সাপ হল “Belcher’s sea snake”
কি? নাম শুনে অবাক লাগছে নিশ্চয়ই???? 
কিন্তু হ্যাঁ এটাই সত্য। Belcher’s sea snake এর বিষ (Inland taipan/Black mamba) এর থেকে ৫০% বেশি বিষাক্ত।
তবে আশ্চর্য এর বিষয় হল এই সাপ সহজে কামরায় না। এরা সমুদ্রে বসবাস করে। আরও আশ্চর্যের বিষয় হল Belcher’s sea snake এর ১০টি কামড়ের মধ্যে সাধারণত মাত্র ১টিতে বিষ থাকে

Belchers-sea-snake

১. Botulinum toxin

Botulinum-Toxin-Type A

পৃথিবীর সবচাইতে বিষাক্ত জিনিস কি? প্রশ্ন টা সহজ কিন্তু উত্তরটা হয় অনেক।
কেউ বলে জেলিফিশ কেউবা সায়ানাইড আবার কেউ উত্তর দেয় সাপের বিষ।
আসলে যার কাছে যেটা আকর্ষণীও মনে হয় আর কি:-D
যাইহোক, এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বিষাক্ত জিনিস/পদার্থ  যাই বলেন না কেন তা হল “Botulinum”  যাকে Botulinum toxin বলা হয়।
Botulinum toxin দুই প্রকার Type A এবং Type B
LD50 এর রিপোর্ট অনুযায়ী “Botulinum toxin” এর Toxicity 5 NG / কেজি
(এক গ্রাম = এক বিলিয়ন NG বা Nano গ্রাম)
একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষকে মারার জন্য  50 NG Botulinum toxin যথেষ্ট।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার  হল Botulinum toxin ই আবার সবচেয়ে বেশি প্রসাধন শিল্পে ব্যবহৃত হয় যা BOTOX নামে পরিচিত :-p এবং এটা মেয়েদের বলিরেখা দূর করার জন্য ব্যবহার হয়, তবে তা খুবই কম পরিমাণে প্রায় ০.০০০১ ন্যানো গ্রাম।


Botox using in wrinkle



আজ এ পর্যন্তই ধন্যবাদ সবাইকে

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন